শিশুদের ইন্টারনেট থেকে দূরে রাখার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর
বাচ্চাদেরকে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন থেকে দূরে রাখার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে তাদেরকে উৎসাহিত করা উচিৎ বলে শিক্ষক ও অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেছেন, ইন্টারনেটের ভালো দিকটাই দেখতে হবে। খারাপ দিকটা বর্জন করতে হবে। সেজন্য প্যারেন্টাইল গাইড প্রয়োগ করে শিশুদের নিরাপদ রাখা সম্ভব। ইন্টারনেট নিরপদ রাখতে সরকার ইতোমধ্যে ২৬হাজার সাইট আমরা বন্ধ করেছি। শিশুদের জন্য ইন্টারনেট নিরাপদ রাখতে সম্ভাব্য সব কিছু করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
ডিজিটাল প্লাটফর্মে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সঙ্গে ‘আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যত’ শীর্ষক ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার এবং বিজয় ডিজিটাল এর প্রধান নির্বাহী জেসমিন জুই।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭৭ সালে কম্পিউটারকে শিক্ষার উপকরণ হিসেবে মূল্যায়ণ করছে মন্তব্য করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল শিক্ষা পদ্ধতি প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির চেয়ে সহজ ও আনন্দদায়ক হওয়ায় শিশুদের মনন ও মেধা বিকাশে কার্যকর ও ফলপ্রসূ একটিপদ্ধতি।
তিনি আরো বলেন, শিশুকাল হচ্ছে তাদের আগামী দিনের সুযোগ্য করে গড়ে তোলার উৎকৃষ্ট সময়। প্রাথমিক বিদ্যালয় হচ্ছে শিশুদের ভবিষ্যত ভিত তৈরির সূতিকাগার। তারা কাঁদা মাটির মতো তাদের যে ভাবে গড়তে চান সেভাবেই তারা তৈরি হবে। শিশুদের তৈরি করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশী। শিশুরা তাদের মা বাবার চেয়ে শিক্ষকদের পরামর্শ বেশী অনুসরণ করে। শিক্ষকদের নির্দেশনাই তাদের পাথেয়।
বৈঠকে শিশুদের দক্ষ মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষকদের ডিজিটাল প্রযুক্তি নির্ভর ব্যাপক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার।
জেসমিন জুই বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিশুরা খেলার ছলে তার পাঠ্যপুস্তক সহজে নিজে থেকে আয়ত্ব করতে পারে। এই পদ্ধতিতে নিজেরাই খেলার ছলে পাঠ্যপুস্তকের পড়া শিখে নিতে পারে। একবার কৌশলটা দেখিয়ে দিলে তাকে ডিভাইস থেকে সরানো কঠিন। তিনি বলেন, কনটেন্ট তৈরির জন্য পাঠধারার সাথে সামঞ্জস রেখে শিশুদের চাহিদা তাদের ভাল লাগা ইত্যাদি অনেক মনস্তাত্বিক বিষয় নির্মাতাকে মাথায় রেখে কাজ করতে হয়। গত দশবছরে আমরা অত্যন্ত সফলতার সাথে তা করতে পেরেছি। করোনাকালে তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমাদের প্রচেষ্টার বিরাট একটা সফলতা দেখছি।